বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যুক্ত হলো ৪৪১ নবীন নাবিক: বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজে শপথ গ্রহণ

যুগান্ত বার্তাঃ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল অঙ্গনে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলেন ২০২৬ ব্যাচের ৪৪১ জন নবীন নাবিক। দীর্ঘ বুটক্যাম্প প্রশিক্ষণ শেষে পটুয়াখালীর বানৌজা শের-ই-বাংলা প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজে তারা দেশরক্ষা, জাতীয় পতাকার প্রতি আনুগত্য এবং সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার শপথ গ্রহণ করেন। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নৌবাহিনীর নতুন শক্তি হিসেবে যোগ হলো একদল প্রশিক্ষিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ জনবল।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) অনুষ্ঠিত এই শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তিনি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন এবং প্রশিক্ষণে অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জনকারী নবীন নাবিকদের হাতে পদক ও পুরস্কার তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণে সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করে ‘নৌপ্রধান পদক’ লাভ করেন মো. শাহরিয়ার টুটুল। তিনি সামগ্রিক পারফরম্যান্সে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে সেরা চৌকশ নাবিক হিসেবে নির্বাচিত হন। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে ‘কমখুল পদক’ পান মো. সামিউল ইসলাম শাকিল, আর তৃতীয় স্থান অধিকার করে ‘শের-ই-বাংলা পদক’ অর্জন করেন মো. কাদের মিয়া। পাশাপাশি সেরা চৌকশ মহিলা নাবিক হিসেবে মোছা. মারিয়া আক্তার ‘প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার পদক’ লাভ করেন।
নৌবাহিনী প্রধান তার বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন, শহীদ লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোয়াজ্জম হোসেনসহ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নৌ কমান্ডোদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি দেশের সমুদ্র নিরাপত্তা ও নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে চলমান আধুনিকায়ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, সম্প্রতি নৌবাহিনীতে দুটি হেলিকপ্টার, দুটি আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল (ইউএভি), চারটি মাল্টি-মিশন ইন্টারসেপ্টর বোট এবং পাঁচটি পেট্রোল বোট সংযোজন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিজস্ব ডাটা সেন্টার, BNNET স্থাপন, আধুনিক হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে জাহাজ এবং ড্রোন প্রযুক্তি সংযোজনের কাজ চলমান রয়েছে। নৌবাহিনীর শিপইয়ার্ডগুলো নিজস্ব সক্ষমতায় যুদ্ধজাহাজ, ল্যান্ডিং ক্রাফট ট্যাংক (এলসিটি) ও অন্যান্য নৌযান নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় নৌবাহিনীর সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জাতীয় নির্বাচনের মতো রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নবীন নাবিকদের উদ্দেশে নৌবাহিনী প্রধান সততা, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও দেশপ্রেমকে জীবনের মূল আদর্শ হিসেবে ধারণ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনা ও বিমানবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।
মনোমুগ্ধকর এই কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে নবীন নাবিকরা আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য হিসেবে যাত্রা শুরু করেন এবং দেশ ও জাতির প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী সদর দপ্তরের উচ্চপদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং নবীন নাবিকদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
Comments