রতন ও মালেকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার আসামিদের প্রকাশ্য চলাফেরা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন
যুগান্ত বার্তা (নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি): বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া হত্যা, হামলা ও সহিংসতার বিভিন্ন মামলার কয়েকজন আসামির প্রকাশ্য চলাফেরা ও স্থানীয় পর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি নিয়ে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় জনমনে প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে আলোচিত এসব মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে দেখা যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা বাড়ছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক কুড়েরপাড় এলাকার বাসিন্দা রতন, পিতা, আব্দুল কাদের, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মামলা নং ১৬(০৮)২৪-এর ৪০ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ রয়েছেন। মামলায় দণ্ডবিধির ( ১৪৩, ১১৪, ১০৯, ৩০২ ও ৩৪ ) ধারাসহ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অপরদিকে, একই এলাকার মালেক, পিতা হাবিবুল্লাহ, ফতুল্লা থানার মামলা নং ১৫(০৯)২৪-এ আসামি হিসেবে উল্লেখ রয়েছেন বলে মামলার নথিতে জানা যায়। মামলার এজাহারে তার বিরুদ্ধে সহিংস ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিষয়গুলো বর্তমানে বিচারিক ও তদন্ত প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, মামলার তদন্ত চলমান থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে এবং তারা বিভিন্ন সামাজিক ও স্থানীয় কর্মকাণ্ডেও অংশ নিচ্ছেন। এতে অনেকের মধ্যে আইন প্রয়োগ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগে মামলা হয়েছে, তাদের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চান সাধারণ মানুষ। এতে জনগণের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
আরেকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসিন্দা জানান, আমরা কাউকে আদালতের রায়ের আগে দোষী বলতে চাই না। তবে অভিযোগ থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হলে জনগণের মধ্যে আইনের শাসনের প্রতি আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ আলোচিত মামলাগুলোর ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম, তদন্তের অগ্রগতি এবং বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ জনমনে বিদ্যমান নানা প্রশ্ন ও সংশয় দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।
অনেকেই মনে করেন, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে একথা সত্য আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়। অপরাধী উপযুক্ত ব্যক্তিদের বিনা জামিনে প্রকাশ্যে আশা আইনগত বিবেচনায় জনস্বার্থে ব্যক্তির অবৈধ শক্তির প্রয়োগ বলে মনে করেন।




Comments