লাইসেন্সের আওতায় আসছে ব্যাটারিচালিত যান, চালকদের হবে প্রশিক্ষণ

ছবি-সংগ্রহীত
যুগান্ত বার্তা: ২০৩০ সালের মধ্যে ব্যাটারিচালিত ইলেকট্রিক মোটরযান ব্যবসায়িরা সরকারকে ত্রিশ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব কর প্রদান করবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইলেকট্রিক মোটরযান প্রশিক্ষণ এন্ড ইজিবাইক সার্ভিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল কালাম।
একই সঙ্গে সারা দেশে চলমান ৫০ লাখ ব্যাটারিচালিত ইলেকট্রিক মোটরযানের মধ্যে ৪০ লাখ যানকে অচিরেই লাইসেন্সের আওতায় এনে বৈধভাবে পরিচালনাসহ সব চালককে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ চালক হিসেবে গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি।
শনিবার (৮ জুন) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুঁড়ি এলাকায় বাংলাদেশ ইলেকট্রিক মোটরযান প্রশিক্ষণ এন্ড ইজিবাইক সার্ভিস লিমিটেড এর জেলা কার্যালয় উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
আবুল কালাম বলেন, ইঞ্জিনচালিত যানবাহনের বিষাক্ত ধোঁয়ায় বায়ু ও পরিবেশের দূষণ রোধ করতে প্রধানমন্ত্রী নিজেও ব্যাটারিচালিত ইলেক্ট্রিক মোটরযানকে বৈধ ঘোষণা করে শৃঙ্খলার আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে সব ইলেক্ট্রিক মোটরযান ও চালকদের বিআরটিএর লাইসেন্সের আওতায় এনে আমরা বৈধভাবে পরিচালনা করবো।
পাশাপাশি এই খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের চাঁদাবাজি বন্ধ করতে সবগুলো রুটে সংগঠনের নিজস্ব বেতনভুক্ত ভলান্টিয়ারের মাধ্যমে যানগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এতে করে সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব আয় পাবে এবং ব্যাটারিচালিত মোটরযানগুলো শৃঙ্খলার মধ্যে আসবে। অনভিজ্ঞ চালকরা প্রশিক্ষণ পেলে দুর্ঘটনাও অনেক কমে আসবে।
নারায়ণগঞ্জসহ দেশের দশটি জেলায় এরইমধ্যে সংগঠনটির দশটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সারা দেশে ৫০ লাখ ব্যাটারিচালিত ইলেকট্রিক মোটরযান ইজিবাইক চলাচল করলেও এর কোনো নীতিমালা না থাকায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচল করছে। চালকদেরও কোনো প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স বা পরিচয়পত্র না থাকায় সারা দেশে ব্যাটারিচালিত মোটরযান ছিনতাই ও চালক হত্যাসহ অহরহ দুর্ঘটনাও ঘটছে। এছাড়া এই খাত থেকে সারা দেশে প্রতিদিন শত কোটি টাকা চাঁদাবাজির কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। তাই ব্যাটারিচালিত মোটরযানকে সরকারের নীতিমালার মাধ্যমে বৈধভাবে পরিচালনা করা হবে।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি জিএম আরমান এর সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র আব্দুল করিম বাবুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
Comments