গাজীপুরে বাসন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট আরেফিন আকন্দের সম্পদের পাহাড়!

গাজীপুরে বাসন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট আরেফিন আকন্দের সম্পদের পাহাড়!

যুগান্ত বার্তাঃ গাজীপুর জেলার বাসন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ফার্মাসিস্টের দায়িত্বে থাকা মো. আরেফিন আকন্দের কোটি কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ মিলেছে। অভিযোগ উঠেছে, বাসন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগদানের পর তিনি নানান অনিয়ম আর দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। আর এসব দুর্নীতির অর্থে নিজ জেলায় গড়েছেন বিপুল পরিমাণ সম্পদ। অনুসন্ধানে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার তথ্য পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে।

জানা যায়, মো. আরেফিন আকন্দ গাজীপুরের সদর থানার বুরুলিয়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা। তিনি ২০০১ সালে স্বাস্থ্য বিভাগে বাসন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ফার্মাসিস্ট হিসেবে নিয়োগ পান। নিয়োগের সময় তার বেতন ছিল পাঁচ হাজার টাকা। নিয়োগের পর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আরেফিন। ২০১০ সালে তিনি বাসন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে যোগদান করেন এবং বর্তমানে সেখানেই কর্মরত রয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, আরেফিন আকন্দ ফার্মাসিস্ট হলেও স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রায় সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ তিনি নিজেই করতেন। এর ফলশ্রুতিতে নানান অনিয়ম সহজেই করতে পেরেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাসন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সেবার মান নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে রয়েছে প্রচুর অভিযোগ। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, তারা এ কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ পান না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ওষুধ কেন্দ্র থেকে বিক্রি করে দেওয়া হয় বিভিন্ন ফার্মেসিতে। ফলে সেবা নিতে আসা রোগীরা প্রয়োজনীয় ওষুধ পেতে ব্যর্থ হন। এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সেবা নিতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক রোগী জানান, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ওষুধ এবং চিকিৎসা সেবা নিতে হয় টাকার বিনিময়ে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানার রওশন সড়ক এলাকায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকায় ৬ শতাংশ জমি ক্রয় করে আরেফিন আকন্দ একটি ৪ তলা ভবন নির্মাণ করেছেন। এছাড়া নাওজোড় মোল্লাপাড়া এলাকায় ৬-৭ বছর আগে ৭ শতাংশ জমি ক্রয় করেন তিনি, যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৩০ লাখ টাকা। গাজীপুর শহরের বিভিন্ন স্থানে তার নামে-বেনামে একাধিক সম্পদেরও তথ্য পাওয়া গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে কথা হলে ফার্মাসিস্ট মো. আরেফিন জানান, এসব সম্পত্তির মালিক তিনি নিজেই এবং রওশন সড়কের বহুতল ভবনটি তিনি ব্যাংক লোন নিয়ে নির্মাণ করেছেন।

এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদা আক্তার জানান, অনিয়ম এবং দুর্নীতির সাথে কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Comments

Popular posts from this blog

নারায়ণগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় সাংবাদিক বিপ্লব গুরুতর আহত, সুযোগ বুঝে সর্বস্ব লুটলো চালক

জনসচেতনতা বৃদ্ধি করলেই ডেঙ্গুর প্রকোপ ও এর ভয়াবহতা দূর করা সম্ভব : সাখাওয়াত হোসেন খান

গণতন্ত্র হুমকির মুখে? গণতন্ত্রে বিশ্বাস না করা শক্তির উত্থান হচ্ছে- মির্জা ফখরুলের সতর্ক বার্তা