মিরপুরের স্বাধীন বাংলা মার্কেট এখনও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দখলে।
যুগান্ত বার্তাঃ রাজধানীর মিরপুরে আওয়ামী লীগের সাবেক এক কাউন্সিলর সহ বেশ কয়েক জনের বিরুদ্ধে এখনো মার্কেট দখলে রেখে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। গত ৫ই আগস্টের পর আত্মগোপনে থেকেও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন তিতু, তার ভাই আনোয়ার হোসেন লিটু, ছোট ভাই মহিউদ্দিন শিকদার কামাল ওরফে কিলার কামাল, শামসুল হক,ফখরুল ইসলাম ফরহাদ সহ বেশ কয়েকজন মিরপুরের একটি মার্কেট দখলে রেখে চাঁদাবাজির রমরমা বাণিজ্যে লিপ্ত।
জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মিরপুর ১ নম্বর সেকশনে ১৯৯০ সালে বরাদ্দ দেয়া হয় ১৪ জনকে। পরে জেলা প্রশাসন থেকে অধিগ্রহণের ৬৬ দশমিক ছয় ছয় কাঠা জায়গায় ১৯৯০ সালে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ১৪টি প্লট তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে ১৪ জনের প্লটের পাওয়ার নিয়ে নেন শমশের আলী ও তার ভাই সৈয়দ আলী। কিন্তু
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে জোরপূর্বক জায়গাটি দখলে নেন আওয়ামী লীগের নামধারী শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। তখন থেকেই আর নিজেদের জায়গায় যেতে পারেননি ভুক্তভোগী পরিবার ।
ভুক্তভোগী শমসের আলীর মেয়ে সামসাদ আরা সাথী জানান নিয়মিত তারা খাজনা পরিশোধ করে আসছেন।সাথী আরো জানান মার্কেট দখলে রাখতে তাদের পরিবারকে এখনও নানা মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লেবাসধারী অবৈধ দখলদার সন্ত্রাসীরা। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার মিলছেনা বলে অভিযোগ রয়েছে তাদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উক্ত ৬৬ কাঠা জায়গায় উপর ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ৩০০ দোকান রয়েছে। দোকান মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এসব দোকান থেকে লিটু, টিতু,কামাল,শামসুল হক,ফখরুল সহ কয়েকটি গ্রুপ প্রতিমাসে জোরপূর্বক তাদের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে যায়। ভাড়া নেওয়ার সময় তারা কোন প্রকার রিসিট প্রদান করেন না। দোকান মালিকেরা আরো জানান বাধ্য হয়েই তাদের এসব অবৈধ দখলদারদের ভাড়া দিতে হয়,ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদেরও মারধর করার হুমকি দেন লিটু, তিতু গং। দোকান মালিকেরা আরো বলেন তারাও জানেন এই জায়গার প্রকৃত মালিক শমসের আলী ও তার পরিবার। দোকান মালিকদের দাবি প্রকৃত মালিক ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অচিরেই অবৈধ দখলদারের উচ্ছেদ করে প্রকৃত মালিক তাদের জায়গা বুঝে নিয়ে ব্যবসায়ীদের নিশ্চিন্তে নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করার সুযোগ করে দিবেন। এ বিষয়ে নিকটবর্তী থানায় একাধিক অভিযোগ দায়ের করেছেন শমসের আলী ও তার পরিবার।

Comments