ফরিদপুর উপজেলা পরিষদের দুর্নীতির আর এক আতংকের নাম মিজানুর রহমান মিজান!
বিশেষ প্রতিনিধিঃ ঢাকা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত একটি জেলা ফরিদপুর, সেই ফরিদপুর জেলার উপজেলা পরিষদের উপ- প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান মিজানের দূর্নীতির শেষ কোথায়?
মিজানুর রহমান মিজানের রয়েছে আলিশান বাড়ি, নামে-বেনামে কৃষি জমি, দুই একর জায়গায় জুড়ে রংঙ্গিন মাছ চাষের পুকুর, শহরের প্রাণকেন্দ্রে বিভিন্ন স্থানে শপিংমল ও দোকান।
তিনি কোনো অভিজাত পরিবারের সন্তান না হয়েও ইতিমধ্যে তার অর্থের-পাহাড় দেখলেই চোখ কপালে উঠার মতো অবস্থা। এ যেন ‘আলাদিনের চেরাগ’ হাতে পাওয়ার মতো।রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে জাওয়া।
ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের মিজানের কথা। ০৩/০৬/২০২৪ইং তারিখে মোঃ বাকাহীদ হোসেন,প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা পরিষদ ফরিদপুর। তার সাক্ষরিত এক এনওসিতে যার স্বারক নাম্বার(২১৩), মিজানুর রহমানের পারসোনাল যে তথ্য পাওয়া জায়।তা হলো।মোঃ মিজানুর রহমান, পিতাঃ আঃ মাজেদ খান, ফরিদপুর জেলা পরিষদ উপ- সহকারী।গ্রামঃ গোবিন্দপুর, ডাকঘরঃ গৌড়দিয়া,উপজেলাঃ সালতা,জেলাঃ ফরিদপুর। জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্ম নিবন্ধন নাম্বারঃ ৭৭৭৬৯৯৩০১১। অবসর গ্রহণের তারিখঃ ৩০/১২/২০৩৯ খ্রিঃ। তার স্ত্রীর নামঃ আবিদা সুলতানা, তার (২),কন্যা এবং (১),ছেলে, আনাম মোঃ আব্দুল রহমান।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাধারণ পরিবারের জন্ম এই মিজানের। ফরিদপুর মোল্লা বাড়ি সড়কে তার রয়েছে তিনতলা জায়গাসহ বাড়ি। শহরতলী দয়রামপুর গ্রামে দুই একর জুড়ে পুকুরসহ রংঙ্গিন মাছের চাষ ও বাগান। পাশেই রয়েছে কৃষি জমি।
রাজবাড়ি রাস্তার মোড়ে দোকান। প্রধান শহরের মধ্যে জনতা ব্যাংকের মোড়ে ১১তলার দ্বিতীয় তলায় ২টি দোকান, নিউ মার্কেট আয়শা সুপার মার্কেটে ২টি দোকান।
একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর জন্য সরকারি বেতন-ভাতা বাবদ যে পরিমাণ বরাদ্দ রয়েছে তা দিয়ে জীবন-যাপন করতে হিমশিম খেতে হয়। সেখানে মিজানুর রহমান একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়ে কীভাবে এত সম্পদ গড়ে তুলেছেন তা নিয়ে প্রশ্ন সাধারণ জনগণের। তিনি এখন কয়েক কোটি টাকার মালিক। এই অর্থ সম্পত্তি গড়ে তোলার পিছনে আয়ের উৎস কি জানতে চায় সচেতন মহল?
অভিযোগ আছে, সদর উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কাজ এই মিজানের মাধ্যমে করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদে সকল বরাদ্দ থেকে শুরু করে হাট-বাজারের ইজারা, বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, চেক পাস তাকে ছাড়া হয় না। পরিষদে তার অফিস কক্ষ দেখলে মনে হবে এই বুঝি পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা। অথচ তার পদবী অফিস সহকারী। প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা না হলেও উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ উপজেলা চেয়ারম্যানদের তিনি যা বলবেন সেটাই ঠিক।
এই বিষয়ে মো. মিজানুর রহমান মিজানের মুঠোফোনে অসংখ্য বার যোগাযোগ করা হলে তিনি তার ফোন ধরেননি, তাঁর অফিসে গিয়েও তার কোনো সন্ধান মিলেনাই,সে সাংবাদিক দের কথা শুনেই পালিয়ে বেরান এবং নাম ধারি অন্য হলুদ সাংবাদিক দ্বারা A TEN NEWS এর সাংবাদিক কে ম্যানেজ করতে প্রস্তাব দেন।
গোপন সূত্রে জানা যায়, এই মিজানের দুর্নীতি, অনিয়ম নিয়ে যতবার সাংবাদিকরা সংবাদ করতে গেছেন তাদেরকে কোনো না কোনোভাবে তিনি ম্যানেজ করে ফেলেন। এবং অন্য কোনো সাংবাদিক সংবাদ করতে গেলে তার পরিচিত বা সুবিধাভোগী সাংবাদিকদের দিয়ে ম্যানেজ করেন বা হুমকি-ধমকি দেন। তার অফিসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পায় না।
অনেক আগেই তাকে সদর উপজেলা পরিষদ থেকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বদলি করা হয়। তবে কোন ক্ষমতাবলে তিনি এখনো উপজেলা পরিষদে বহাল রয়েছেন সেটা জানা যায়নি।
এবিষয়ে মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদপুর। তাকে মুঠো ফনে ফোন করলে তিনি বলেই যারা দূর্নীতিবাজ, তাদের সঠিক তথ্য প্রমাণ আমাদের কাছে আসলেই আইনগতভাবে কঠোর ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
এবিষয়ে আবুল কালাম মোঃ লুৎফর রহমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফরিদপুর সদর, ফরিদপুর, তাকে ফোন করলে তিনি বলেন আইন সবার জন্য সমান অপরাধী যেই হোকনাকেনো সঠিক তদন্ত করে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Comments