ফেনীতে চামড়ার বাজারে ধস: ক্রেতা না থাকায় হতাশ মৌসুমী ব্যবসায়ীরা

যুগান্ত বার্তাঃ কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে ফেনী ট্রাংক রোডে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ক্রেতার দেখা নেই। তীব্র গরমে বাড়ি বাড়ি ঘুরে সংগ্রহ করা চামড়া নিয়ে তাই বিষণ্ণ মনে অপেক্ষা করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকছে না।
একজন মৌসুমী খরিদ্দার জানান, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর নামমাত্র মূল্যে, মাত্র ৪৫০ টাকায় চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। তার অভিযোগ, "সবকিছু সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। গতবারের মতো এবারও চামড়ার কোনো দাম নেই।"
ফেনীর চামড়া ব্যবসায়ী ও মৌসুমী খরিদ্দারদের মতে, এই সংকট আজ নতুন নয়। বিগত প্রায় ১৫ বছর ধরেই তারা লোকসান, সিন্ডিকেট এবং আর্থিক দুর্নীতির শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
একসময় ফেনীর এই চামড়া বাজারে যেখানে হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হতো, সেখানে এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাজারটি সংকুচিত হতে হতে আগের তুলনায় প্রায় ৪০ গুণ ছোট হয়ে এসেছে। এর ফলে বহু ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন এবং স্থানীয় গুদামগুলোও এখন বন্ধ হওয়ার পথে।
ব্যবসায়ীরা এই সংকটের জন্য ঢাকার ট্যানারি মালিকদের অনেকাংশে দায়ী করছেন। তাদের অভিযোগ, ট্যানারিগুলো থেকে সময়মতো ঋণের টাকা ও বকেয়া পরিশোধ না করায় তারা পুঁজি সংকটে পড়েছেন। এতে চামড়া সংগ্রহ ও বিক্রি উভয়ই মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা আরও বলেন, কার্যকর প্রশাসনিক তদারকির অভাবে এই সিন্ডিকেট বছরের পর বছর ধরে সক্রিয় রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। চামড়া যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য সরকার বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করছে। পাশাপাশি, চামড়া পাচার রোধে কুমিল্লা-ফেনী-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্ত এলাকায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে চামড়া ব্যবসায় হারানো জৌলুস ফিরিয়ে আনা।
তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু আশ্বাস বা লবণ বিতরণই যথেষ্ট নয়। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা, সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা এবং চামড়া সংরক্ষণ ও বিক্রির জন্য একটি সুসংগঠিত কাঠামো। কার্যকর সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া এই শিল্পের ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে বলেই তারা মনে করেন।
Comments