সংঘর্ষের পর গোপালগঞ্জে রাত্রিকালীন কারফিউ জারি, শহরজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি

সংঘর্ষের পর গোপালগঞ্জে রাত্রিকালীন কারফিউ জারি, শহরজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি

যুগান্ত বার্তাঃ গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে দিনভর ব্যাপক সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও প্রাণহানির পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করেছে। বুধবার রাত ৮টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত এই কারফিউ বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

দিনভর দফায় দফায় সংঘর্ষ এবং একাধিক প্রাণহানির ঘটনায় ১৪৪ ধারা জারির পরও পরিস্থিতি শান্ত না হওয়ায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। বুধবার সকাল থেকেই এনসিপির ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সমাবেশের আগে ও পরে দফায় দফায় হামলা ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পুলিশের গাড়ি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

দুপুরে এনসিপির সমাবেশ মঞ্চে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা ফেরার পথে তাদের ওপর পুনরায় হামলা চালানো হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দিনভর শহরে গোলাগুলি, ককটেল বিস্ফোরণ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই সহিংসতায় অন্তত দুজন নিহত এবং সাংবাদিক ও পুলিশসহ বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে ১৪৪ ধারা জারি করা হয় এবং পুলিশ ও সেনাবাহিনীর পাশাপাশি চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত উত্তেজনা না কমায় এবং জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় সরকার চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, "জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং শহরে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকতে পারে।"

কারফিউ চলাকালীন সময়ে জরুরি সেবা, যেমন- অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি ছাড়া সব ধরনের যান চলাচল ও জনসাধারণের বাড়ির বাইরে বের হওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়কে টহল জোরদার করবে এবং কারফিউ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

এই ঘোষণার পর শহরজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সন্ধ্যার পর থেকেই রাস্তাঘাট জনশূন্য হতে শুরু করেছে। শহরবাসী চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।

Comments

Popular posts from this blog

নারায়ণগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় সাংবাদিক বিপ্লব গুরুতর আহত, সুযোগ বুঝে সর্বস্ব লুটলো চালক

জনসচেতনতা বৃদ্ধি করলেই ডেঙ্গুর প্রকোপ ও এর ভয়াবহতা দূর করা সম্ভব : সাখাওয়াত হোসেন খান

গণতন্ত্র হুমকির মুখে? গণতন্ত্রে বিশ্বাস না করা শক্তির উত্থান হচ্ছে- মির্জা ফখরুলের সতর্ক বার্তা