টাঙ্গাইলে হেযবুত তওহীদের নারী সম্মেলন: ‘নারীর প্রকৃত মুক্তি কেবল তওহীদভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সম্ভব’

যুগান্ত বার্তাঃ টাঙ্গাইলে হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে ‘তওহীদভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় নারীদের অধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (১৮ জুলাই) সকাল ১০টায় টাঙ্গাইল ক্লাব মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে টাঙ্গাইল জেলা হেযবুত তওহীদ।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধন করেন হেযবুত তওহীদের প্রধান উপদেষ্টা খাদিজা খাতুন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেযবুত তওহীদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নারী বিভাগের প্রধান রুফায়দাহ পন্নী।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘পশ্চিমা পলিসি আমদানি করে বা কিছু কমিশন গঠন করে নারীর প্রকৃত মুক্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বর্তমানে সমাজে নারীদেরকে যেভাবে ভোগ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। একমাত্র তাওহীদভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থাই নারীদের প্রকৃত সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করতে সক্ষম। ইনশাআল্লাহ, তাওহীদভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে নারীরা মাথা উঁচু করে আত্মমর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে পারবে। এর জন্য প্রয়োজন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, যা বাংলাদেশের মানুষের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’
তিনি আরো বলেন, হেযবুত তওহীদের প্রস্তাবিত তওহীদভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় নারীদের জন্য কোনো কোটার প্রয়োজন হবে না। নারীরা অবলা বা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী নয়; তারা তাদের যোগ্যতা, প্রজ্ঞা ও মেধা দিয়েই রাষ্ট্রীয় সকল অঙ্গনে নিজেদের স্থান করে নেবে।

রসুলের (সা.) জীবনী থেকে উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যে সমাজে কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো, সেখানেই ইসলাম নারীকে সর্বোচ্চ মর্যাদা ও ক্ষমতা দিয়েছে। নারীরা তখন শুধু মসজিদে বা ঈদের জামাতেই নয়, বরং প্রশাসনিক ও সামরিক দায়িত্বেও নিয়োজিত ছিলেন। মক্কা ও মদিনার বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে দুইজন নারী সাহাবী ছিলেন, যা তাদের প্রশাসনিক দক্ষতার প্রমাণ।
‘হেযবুত তওহীদ প্রস্তাবিত তওহীদ ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় নারীরা পুলিশ, সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আসীন হতে পারবে। এর ফলে এমন এক নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে, যেখানে একজন নারী অলংকার পরিহিত অবস্থায় রাতের অন্ধকারে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে একা ভ্রমণ করতে পারবে, এক আল্লাহ ও বন্য পশু ছাড়া তার কোনো ভয় থাকবে না। তিনি এই রূপরেখা নিয়ে গবেষণা ও আলোচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধর্ষণ ও নির্যাতনমুক্ত একটি নিরাপদ রাষ্ট্র উপহার দিতে এই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য।’- বলেন তিনি।
পবিত্র কোরআনের আয়াত উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, মোমেন মোমেনা একে অন্যের বন্ধু, ফ্রেন্ড, সহকারী, সহযোগী, ওয়ালী। তারা পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বী নয়।
তিনি বলেন, সাক্ষ্য আইনে, মেয়েদের সাক্ষ্য দুইজন মেয়ে একজন পুরুষ। আমি দেখি না এই সাক্ষ্য আইনে ডিসক্রিমিনেশন এর কিছু আছে। এখানে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে, টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে দুইজন মেয়েকে সাক্ষী রাখো। যদি একজন ভুলে যায় আরেকজনকে এসিস্ট করবে, একজন ভুলে গেলে যেন আরেকজন স্মরণ করিয়ে দেয়। এটি একেবারেই প্রাকৃতিক। এখানে ডিসক্রিমিনেশন এর তো কিছু নাই, এখানে তো বঞ্চিত করা হয়নি। একজন নারীকে অ্যাড করে দেয়া হয়েছে। এবং এটি অস্বীকার করার কোন জো নাই। আর কোথায় বঞ্চিত করেছে আমি তো দেখলাম না! হ্যা, বাহিরে পার্টিসিপেট করার অধিকার দিচ্ছে না, এটা ধর্ম বলে নাই, এটা মোল্লারা বলেছে। এই ব্যারিগেট, পাথর চাপা দিয়েছে তারা, ইসলাম নয়।- বলেন হেযবুত তওহীদের এই নেত্রী।
সমাজে তাওহীদভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হলে নারীদেরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মনে করেন হেযবুত তওহীদের এই নেত্রী। আল্লাহর বিধান প্রচারে তিনি নারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক খাদিজা খাতুন তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার রাজনৈতিক অঙ্গনে যদি দুর্নীতি চলে, শিক্ষা ব্যবস্থায় যদি ভোগবাদী বস্তুবাদী বাণিজ্য চলে, ধর্মীয় অঙ্গনে যদি নৈরাজ্য চলে, অর্থনীতি যদি হয় সুদভিত্তিক, সকল ক্ষেত্রে যদি অন্যায় অবিচার দুর্নীতি চলতে থাকে তাহলে স্বাভাবিকভাবে নারীদের উপর নিপীড়ন হবে। ট্রাকের থেকে ইট নামানো এটা নারীর বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে যায় না। এটা অধিকার নয়। বাধ্য করে তাকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এর দ্বারা নারীর অধিকার ধ্বংস হয়েছে, অধিকার হারা হয়েছে। আমি মনে করি প্রত্যেক নারীর তার অধিকার পাওয়া দরকার, তার যা দরকার সেটা হচ্ছে তার অধিকার। যেটুকু পেলে তার মর্যাদা, সম্মান, ইজ্জত, সুরক্ষিত থাকবে ঠিক সেটুকু।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হায়দার আলী খান পন্নী আল আওলাদ ওয়াক্ফ এস্টেটের মোতায়াল্লী ও হেযবুত তওহীদের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক উম্মুত তিজান মাখদুমা পন্নী বলেন, বর্তমান সমাজে নারীরা জুলুমের শিকার হচ্ছেন, নারীরা বঞ্চিত হচ্ছেন, নারীরা মানবাধিকার পাচ্ছে না, তারা হেনস্তার শিকার হচ্ছেন, তাদেরকে অপমান অপদস্ত করা হচ্ছে। এটা হচ্ছে, এটা বাস্তব। কিন্তু এটিকে অবলম্বন করে ডিরেক্টলি ধর্মকে অবমাননা করা হচ্ছে, ধর্মকে দায়ী করা হচ্ছে, ধর্মই হচ্ছে সকল অন্যায্যতার, বেইনসাফি, আনজাস্ট এর মূল, বৈষম্যের মূল, ডিসক্রিমিনেশনের মূল হলো ধর্ম। এজন্য ধর্মকে এখন বাদ দিতে হবে। এই প্র্যাকটিসটা ইউরোপিয়ানরা করেছে। ধর্মকে বাদ দিয়ে তারা একটি সভ্যতার জন্ম দিয়েছে। যে সভ্যতাকে ইসলামের ভাষায় বলে দাজ্জাল।
তিনি আরো বলেন, নারী-পুরুষের ন্যায্যতা, সমতা তখনই আসবে যদি আমরা সত্যিকার অর্থে একটি ডিফাইন কমেন্ডমেন্ট, একটি ডিফাইন ল অর্থাৎ আল্লাহর হুকুম দ্বারা আমাদের সমাজটা পরিচালিত করতে পারি। তবেই শান্তি আসবে।
টাঙ্গাইল জেলা হেযবুত তওহীদের নারী বিষয়ক সম্পাদক শরীফা খানমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ হেযবুত তাওহীদের সভাপতি এনামুল হক বাপ্পা, টাঙ্গাইল জেলা সাধারণ সম্পাদক মামুন পারভেজ, ময়মনসিংহ নারী সম্পাদক রোজিনা আক্তার, বিভাগীয় নারী ও শিশু স্বাস্থ্য সম্পাদক নাসিমা আক্তার, জামালপুর জেলা নারী সম্পাদক ফরিদা পারভিন, মির্জাপুর নারী সম্পাদক হাবিবা জান্নাত, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নারী সম্পাদক শারমিন আক্তার, কালিহাতী উপজেলা নারী সম্পাদক খাদিজা আক্তার, মির্জাপুর সহকারী নারী সম্পাদক জেসমিন আক্তার, বাসাইল উপজেলা নারী সম্পাদক মেহেরুনেসা প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন হেযবুত তওহীদের সদস্য বাসেলা ইসলাম।
অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বেই শত শত নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় অনুষ্ঠানস্থল। আলোচনা সভাটি নারী সমাজের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ করা যায়। উপস্থিত নারীরা ইসলামে নারীর প্রকৃত অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করেন বলে জানান।
Comments