আবিদার পরিবারের সদস্যদের হত্যার চেষ্টায় গুরুতরভাবে জখম, এখনও হুমকির মুখে পরিবার।
এইচ এম কামরুল হাসান (বিশেষ প্রতিনিধি): নারায়ণগঞ্জের নাসিক ১৮ নং ওয়ার্ডের তোলারামের মোর এলাকায় ভোক্তভোগী আবিদার পরিবার কে হতাহতের ঘটনা বেশ কয়েকজন কে হত্যার চেষ্টায় আহত করে হুমকি প্রদান করেন।
গতকাল ০৩/০৯/২৫) রাতে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভোক্তভোগী আবিদা সুলতানা।
এ বিষয়ে বাদী আবিদা সুলাতানা অভিযোগে উল্লেখ করেন, মোঃ ওয়াসিম সুকুম (৪১), পিতা- মৃত জমশের আলী সুকুম, মাতা-সুফিয়া বেগম, সাং- সুকুম বাড়ী, ৪২ বি.কে রোড, তোলারাম মোড়, থানা ও জেলা- নারায়ণগঞ্জ। ২। রিপন সুকুম (৫০), উভয় পিতা- মৃত জমশের আলী সুকুম, মাতা-সুফিয়া বেগম, সাং- সুকুম বাড়ী, ৪২ বি.কে রোড, তোলারাম মোড়, থানা ও জেলা- নারায়ণগঞ্জ। ৩। লিতুন সুকুম (২২), পিতা-রিপন সুকুম, মাতা-লিজা আফরোজা, সর্ব সাং- ভোলারাম মোড়, নিতাইগঞ্জ, সাং- সুকুম বাড়ী, ৪২ বি.কে রোড, তোলারাম মোড়, থানা ও জেলা- নারায়ণগঞ্জ। ৪। কামরুল (৪৭), পিতা- অজ্ঞাত, সাং- শহিদনগর ডিয়ারা, থানা ও জেলা- নারায়ণগঞ্জ। ৫। নুরুন নাহার (৫০) স্বামী- মৃত আব্দুল খালেক, মাতা- মৃত সাবনা খাতুন, বর্তমান ঠিকানা- সুকুম বাড়ী, ৪২ বি.কে রোড, তোলারাম মোড়, থানা ও জেলা নারায়ণগঞ্জ।
তিনি অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন, ১ ও ২নং বিবাদী আমার দেবর, ৩নং বিবাদী আমাদের ভাতিজা, ৪নং বিবাদী অপরিচিত ব্যক্তি, ৫নং বিবাদী আমাদের উক্ত সম্পত্তিতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে। আমাদের উক্ত সম্পত্তি ভাগভাটোয়ারা হয়নি। ১নং থেকে ৩নং বিবাদীর দীর্ঘদিন যাবৎ আমার স্বামীর ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি সংক্রান্তে বিরোধ চলিয়া আসিতেছে। উক্ত বিরোধের জেরে বিবাদীরা বিভিন্ন সময় আমার পরিবারের সদস্যদের নানা ভাবে হয়রানি ও হমকি ধমকি প্রদর্শনসহ মারধর করার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছে।
১নং বিবাদী ৫নং বিবাদীকে আমাদের উক্ত সম্পত্তিতে ঘর দিয়া আমাদের ভাড়া পরিশোধ না করিয়া বসবাস করিয়া আসিতেছে। গত ইং ৩০/০৮/২০২৫ তারিখ বিকাল অনুমান ০৫:০০ ঘটিকার সময় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন ৪২ বিকে রোড সাকিনস্থ বসত বাসায় অবস্থানকালে ৫নং বিবাদীর কাছে আমার স্বামী বাসা ভাড়ার টাকা চাইলে উক্ত বিবাদী অন্যান্য বিবাদীদের ডাকিয়া আনিয়া একত্রিত হইয়া আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করিয়া নানা ধরনের ভয়-ভীতি হমকি প্রদর্শন করে।
তিনি তাদের উপর আক্রমণ ও হত্যা করার বিষয়ে বলেন, আমরা গালিগালাজ করিতে নিষেধ করিলে বিবাদীগণ সংঘবদ্ধ ভাবে আমার স্বামী খোকন সুকুম (৫৩) ও আমার ছেলে অঙ্গন সুকুম (১৭) কে বেধরক মারধর করিতে শুরু করে। মারধরের একপর্যায় ১নং বিবাদীর হাতে থাকা ইট দিয়া আমার স্বামী খোকন সুকুমকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করিয়া মাথায় গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম করে। ১নং বিবাদীর আঘাতে আমার স্বামী পাকার উপর লুটাইয়া পরিলে ৪নং বিবাদীর আমার স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতারী আঘাত করে জখম করে। আমার স্বামী ও সন্তানকে বাঁচাইতে আমি আগাইয়া গেলে বিবাদীরা আমাকেও মারধর করিয়া শরীরের বিভিন্নস্থানে জখম করে এবং ২নং বিবাদী আমার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শীলতাহানী করে।
তখন ৩নং বিবাদী বাসার পার্শ্বে এক চায়ের দোকান হইতে চায়ের গরম পানি সহ কেটলি আনিয়া বড় ধরনের ক্ষতি সাধনের লক্ষে আমার ছেলে অঙ্গন সুকুম (১৭) এর শরীরে ও আমার হাতে ঢেলে দেয় যাহার ফলে আমার ছেলের পিঠে, বুকে, পায়ে সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে পুড়া জখম হয়। ৫নং বিবাদী আমার চুলের মুঠি ধরে মুখে এলোপাতারী ঘুষি মারিয়া আমার গলায় থাকা ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন মূল্য ৮০,০০০/- (আশি হাজার) টাকা নিয়ে নেয়।
তিনি আরো জানান, বিবাদীদের আঘাতে আমরা ডাক চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন আগাইয়া আসিতে দেখিয়া বিবাদীরা আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করিয়া আমাদের স্বপরিবারে হত্যার হুমকি দিয়া বিবাদীরা স্থান ত্যাগ করে।
পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন ও আমার নিকট আত্মীয় স্বজনদের সহায়তায় আমার স্বামী খোকন সুকুম ও ছেলে অঙ্গন সুকুমকে মুমুর্ষ অবস্থায় ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়া গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখিয়া আমার স্বামীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ছেলেকে জাতীয় বার্ণ ইউনিটে রেফার করেন। তাদেরকে উক্ত হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার আমার স্বামীর মাথায় ৭টি সেলাই দেন এবং সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ প্রদান করেন। আমার ছেলে অঙ্গন সুকুম (১৭) এর ক্ষতস্থানে চিকিৎসা প্রদান করেন। ডাক্তার জানান আমার ছেলে অশন এর শরীরের ১৩% শতাংশ পুড়ে গেছে। ডাক্তার আমার বাম হাতের ক্ষতস্থানে চিকিৎসা প্রদান করেন।
বিবাদীরা অত্যন্ত খারাপ প্রকৃতির লোক বিচার শালিস মানে না। আমার, এবং আমার স্বামী ও সন্তানের চিকিৎসা কাজে ব্যস্ত থাকায় এজাহার দায়ের করিতে বিলম্ব হইল। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই। আমি আইন কে সম্মান করি। দীর্ঘদিন যাবত আমাদের সাথে এই জুলুম অন্যায় হয়ে আসছে আমরা সঠিক বিচার সহ সাংবাদিকদের ও আইন শৃংখলা বাহিনা সহযোগিতা কামনা করি।

Comments