নোয়াখালীতে হুজুরকে দাওয়াত না দেওয়া নিয়ে বিয়েবাড়িতে সংঘর্ষ, আহত ১১

যুগান্ত বার্তাঃ নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিয়েবাড়িতে এক হুজুরকে দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত দুজনকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার নলচিরা ইউনিয়নের লামছড়ি গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে শাহাবউদ্দিনের ভাইয়ের মেয়ের বিয়েতে স্থানীয় সমাজের হুজুরকে বাদ দিয়ে বাইরের এক হুজুরকে দাওয়াত দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন প্রতিবেশী হেলাল মাঝি ও তার অনুসারীরা। বিষয়টি নিয়ে রোববার বিকেলে গ্রামে এক বৈঠক বসে। বৈঠকের একপর্যায়ে তর্কবিতর্ক থেকে হাতাহাতি ও পরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয় পরিস্থিতি।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন—হেলাল উদ্দিন, ইমতিয়াজ, ফরিদ উদ্দিন, ওমর ফারুক, কোহিনুর বেগম, উম্মে কুলসুম, নাজিম উদ্দিন, মারজান উদ্দিন, সাইফুজ্জামান, শাহাবউদ্দিন ও মহিমা বেগম।
আহত শাহাবউদ্দিন, যিনি একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, জানান—“আমরা আমাদের পারিবারিক হুজুরকে দাওয়াত দিয়েছিলাম। এতে হেলাল মাঝির লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে বিয়ের দিন বাধা দেয়। আজ দোকানে গেলে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়।”
অন্যদিকে আহত হেলাল উদ্দিন বলেন, “আমি স্থানীয় মসজিদের ক্যাশিয়ার হিসেবে জানতে চেয়েছিলাম কেন সমাজের হুজুরকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে শাহাবউদ্দিন আমাকে হুমকি দেন। পরে তার পক্ষের লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।”
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিনহাজুল আবেদীন জানান, সংঘর্ষের পর শাহাবউদ্দিন ও মারজান নামে দুজনকে জনরোষ থেকে উদ্ধার করে থানায় হেফাজতে রাখা হয়েছে। গুরুতর আহত দুজনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, “ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় গ্রামজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে, তবে বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
Comments