নরসিংদীর রায়পুরাতে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ১।
যুগান্ত বার্তা (নরসিংদী প্রতিনিধি):- নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চর অঞ্চলের যেন ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে টেটা যুদ্ধ। সাথে এখন যুক্ত হয়েছে অস্ত্র। অস্ত্রের ঝনঝনানিতে প্রাণ হারাচ্ছে এলাকার নিরীহ খেটে খাওয়া মানুষ। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কবে বন্ধ হবে এই দ্বন্দ্ব? আর কত নিরীহ মানুষের প্রাণ গেলে শান্ত হবে এই চরাঞ্চল! এই আধিপত্য ও পূর্ব শত্রুতার দ্বন্দ্বের জের ধরে প্রাণ হারিয়েছে শত শত নিরীহ মানুষ। এমনই একটি ঘটনা ঘটে উপজেলার চরমধুয়া ইউনিয়নের সমিবাদ গ্রামে প্রাণ হারান দুলাল মিয়া নামের এক কৃষক।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, মাত্র পনেরশত টাকার সূত্র ধরে এই ঘটনা ঘটে । স্থানীয় আওয়ামিলীগ নেতা খোকা আলম মেম্বারের মোবাইল থেকে পনেরশত টাকা নিয়ে যায় জাকির মিয়ার সমর্থক রুবেল নামের এক ব্যক্তি। এরই জের ধরে খোকা আলম মেম্বার রুবেলকে মারধর করলে উভয় গ্রুপের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। তাহাদের দ্বন্দ্ব স্থানীয় সালিশ দরবারের মাধ্যমে মিমাংসা করা হয় কিন্তু দরবারের রায় মানেননি খোকা আলম। স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারের জন্য এলাকায় অস্ত্রের মহড়া দিতে থাকে সমীবাদের দুই পরিবার সরকার বাড়ী ও মহরম বাড়ির লোকজন। এরই ধারাবাহিকতায় বিগত ০৫/০৯/২০২৫ ইং তারিখে সন্ধ্যায় সরকার বাড়ির লোকজন মহরমআলী ব্যাপারীর বাড়িতে হামলা চালালে আত্মরক্ষার্থে তারাও পাল্টা হামলা চালালে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন দুলাল মিয়া নামে এক কৃষক ও নাহিম নামের এক কিশোর আহত হয়। উক্ত ঘটনায় মৃত দুলালের ভাই বিলাল বাদী হয়ে রায়পুরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। রায়পুরা থানার মামলা নং- ২৪ তাং-৫/৯/২৫ এলাকায় সড়জমিনে গেলে সাংবাদিকদের, দুলাল এর পরিবারের লোকজন জানান, স্থানীয় রাজনীতি প্রভাবশালী ব্যক্তি ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি জসিম উদ্দিন ও তার ভাই কামরুল মিয়ার ইন্ধনে এই হামলা চালায় মরহম আলী ব্যাপারীর বাড়ির লোকজন, সরকার বাড়ির লোকজনের উপর হামলা চালায়। এই বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন উক্ত ঘটনার আগে নরসিংদী থেকে মোবাইলের মাধ্যমে দুই পক্ষের সাথে কথা বলে শান্ত থাকার জন্য অনুরোধ করছি। ঘটনাটি শুনার পর তাৎক্ষণিকভাবে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও বাঁশগাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই আতিয়ার রহমানকেও তথ্য দিয়ে দুই পক্ষকে শান্ত রাখার জন্য তাদের সহযোগীতা চাই এবং ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকেও বিষয়টি অবগত করি যেন চরমধুয়াতে আর কোন সংঘর্ষ না হয়। আমারা চরমধুয়াতে কোনো সংঘর্ষ চাই না, শান্ত রাখতে চাই। ঘটনার পরদিন সকালে আমি পুলিশ নিয়ে এলাকায় যাই। আমি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বসবাস করছিনা, নরসিংদীতে বসবাস করতেছি ব্যবসা বাণিজ্য করে পরিবার নিয়ে জীবন যাপন করতেছি কিন্তু এই মামলায় আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের আসামি করা হয়েছে, যাহা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। উক্ত ঘটনাটি ঘটেছে দুই পরিবারের মধ্যে যাদের সাথে আমার কোন পূর্ব শত্রুতা নাই। আমি এলাকায় কোন সন্ত্রাস মাদক চাঁদাবাজির পক্ষে নাই। ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকা আলম সাবেক মেম্বার এমন কোন অপরাধ নাই যা খোকা আলম করেনি, ইয়াবা ব্যবসা, গাঁজার ব্যবসা, গ্রামে প্রকাশ্যে জুয়ার আসর বসায়, প্রবাসীদের ছেলে মেয়েকে অপহরণ করে অর্থ আদায় করা, গরু চুরি করা ও ডাকাতিসহ সকল অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে ,গডফাদার বণেগেছেন ,অপরাধের স্বর্গরাজ্য যেন বানিয়ে ফেলেছে সমিবাদ গ্রামকে, উক্ত অপকর্মের প্রতিবাদ করায় প্রতি হিংসা মূলক এ মামলাতে আমাদেরকে আসামি করা হয়েছে। স্থানীয়দের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দাবী দুলাল হত্যার প্রকৃত সত্য উদঘাটিত করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। এবং নির্দোষ নিরপরাধ লোকজন হয়রানি থেকে মুক্তি পাক। এই ব্যাপারে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ আদিল মাহমুদ বলেন বর্তমানে এলাকা শান্ত আছে, একটি হত্যা মামলা হয়েছে, আসামিরা হাইকোর্ট থেকে জামিনে আছে। যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বদাই প্রস্তুত।


Comments