নোয়াখালীতে ১২ বছরের ছাত্রী নিয়ে মাদরাসা শিক্ষক পা'লানো'র অভিযোগ
যুগান্ত বার্তাঃ নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার সৈয়দ মুন্সিবাড়ির একটি মাদরাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক সাবেক ছাত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা ওই মাদরাসায় অগ্নিসংযোগ করেছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের উত্তর চর হাসান গ্রামে অবস্থিত সৈয়দ মুন্সিবাড়ির মাদরাসায় আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বুধবার দুপুরে চরজব্বর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের নাম মাহমুদুল হাসান (৩৫)। তিনি পিরোজপুর জেলার বাসিন্দা এবং সৈয়দ মুন্সিবাড়ির মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী ছাত্রীটি ওই মাদরাসার সাবেক শিক্ষার্থী। বর্তমানে সে সদর উপজেলার নুরু পাটোয়ারীহাট মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।
সৈয়দ মুন্সিবাড়ির মাদরাসায় পড়াকালীন সময়ে প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ৭ জানুয়ারি তিনি ওই ছাত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন।
চরজব্বর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবু কাউছার জানান, ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্ত শিক্ষকের মাদরাসায় তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মাদরাসাটি বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার গভীর রাতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা ওই মাদরাসায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। মাদরাসায় তখন কোনো শিক্ষার্থী না থাকায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
তিনি আরও জানান, ছাত্রীকে নিয়ে পালানোর ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সুধারাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অগ্নিসংযোগের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে ওই ছাত্রী তার পরিবারের হেফাজতেই রয়েছে।

Comments