৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত করছে বিএনপি, আমন্ত্রণ পেলেন যারা

যুগান্ত বার্তাঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রায় ৫০ সদস্যের একটি নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করতে যাচ্ছে। নতুন সরকারের এই মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন নবনির্বাচিত মন্ত্রীদের শপথ পাঠ করাবেন। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে বিএনপি চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা হতে পারে প্রায় ৫০ জন। এর মধ্যে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানে আনা–নেওয়ার জন্য ৪৯টি সরকারি গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্টদের ফোন করে শপথ গ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো শুরু হয়েছে।
নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাচ্ছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। তাদের মধ্যে রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদসহ আরও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। এছাড়া ইকবাল হাসান মাহমুদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এবং টেকনোক্র্যাট কোটায় ড. খলিলুর রহমানের নামও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির তালিকায় রয়েছে।
পঞ্চগড়-২ (বোদা ও দেবীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির পল্লী উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক এবং পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সদস্যসচিব।
সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক দুইবারের নির্বাচিত মেয়র এবং সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য ফোন পেয়েছেন। তিনি এবারই প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনও নতুন মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন। তার একান্ত সচিব এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনের সংসদ সদস্য এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরও মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য ডাক পেয়েছেন।
সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় স্থান পাচ্ছেন বলে জানা গেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তাকে শপথ গ্রহণের জন্য ফোন করা হয়েছে।
বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন। তিনি বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি। কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শরীফুল আলমও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ফোন পেয়েছেন। এটি তার প্রথম সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচনী জয়।
এছাড়া জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ–বকশীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয় লাভ করে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য পেয়েছে ৭৭টি আসন, যার মধ্যে জামায়াত এককভাবে ৬৮টি এবং শরিক দলগুলো ৯টি আসনে জয়ী হয়। জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫১ আসনে জয়ী হলেই সরকার গঠন সম্ভব, যা বিএনপি নিরঙ্কুশভাবে অর্জন করেছে।
এই ভূমিধস জয়ের পেছনে একাধিক রাজনৈতিক কারণ কাজ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর মধ্যে রয়েছে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব, দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় ধরে পতিত সরকারের সময়ে দলের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন, দলীয় ঐক্য এবং প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও জিয়া পরিবারের ত্যাগ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তারেক রহমানের দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে প্রত্যাবর্তন এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় নেতৃত্ব প্রদান। তার নেতৃত্বে নির্বাচনী প্রচার, সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও দলীয় ঐক্য বিএনপিকে নতুন করে প্রাণবন্ত করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, তিনি শুধু নির্বাচনে জয়ই নিশ্চিত করেননি, বরং দলকে একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক রোডম্যাপও উপহার দিয়েছেন, যার মূল লক্ষ্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
Comments