দক্ষিণ চট্টগ্রামে আগাম ঈদ উদযাপন- পটিয়াসহ অর্ধশতাধিক গ্রামে বুধবারই ঈদুল আজহা

দক্ষিণ চট্টগ্রামে আগাম ঈদ উদযাপন- পটিয়াসহ অর্ধশতাধিক গ্রামে বুধবারই ঈদুল আজহা

যুগান্ত বার্তাঃ দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়াসহ অন্তত অর্ধশতাধিক গ্রামে এবারও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণার আগেই ঈদুল আজহা উদযাপন করা হবে। মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বুধবার (আগামীকাল) পবিত্র ঈদুল আজহা পালন করবেন। দীর্ঘদিনের এই ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই এলাকায় ভিন্ন দিনে ঈদ পালনের বিষয়টি আলোচনায় আসে।

দরবার সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, প্রায় আড়াই শত বছর আগে সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল গ্রামে হযরত মাওলানা মোখলেছুর রহমান জাহাঁগীরি (রহ.) হানাফি মাজহাবের আলোকে পৃথিবীর যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলে তা অনুসরণের ফতোয়া দেন। সেই ধারাবাহিকতায় তারা সৌদি আরবসহ আরব বিশ্বের চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে আসছেন।

মির্জাখীল দরবার শরীফের দায়িত্বশীল মুহাম্মদ জালালুল হাই বলেন, তারা হানাফি মাজহাব অনুসরণ করেন এবং আরব বিশ্বের চাঁদ দেখার খবর বিভিন্ন মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে সেই অনুযায়ী ঈদের নামাজ আদায় করেন। তিনি আরও জানান, এটি শতবর্ষী ধর্মীয় অনুশাসন এবং এর মাধ্যমে কারও বিরোধিতা করা হয় না।

স্থানীয়ভাবে জানা যায়, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, আনোয়ারা ও পটিয়া উপজেলার অন্তত ৫০টিরও বেশি গ্রামে লক্ষাধিক মানুষ বুধবার ঈদ উদযাপন করবেন। এসব গ্রামের মধ্যে সাতকানিয়ার মির্জাখীল, সোনাকানিয়া, ছোটহাতিয়া, আছারতলি; লোহাগাড়ার কলাউজান, বড়হাতিয়া, চুনতি; বাঁশখালীর ছনুয়া, চাম্বল, শেখেরখীল; এবং পটিয়ার হাইদগাঁও, বাহুলী, ভেল্লাপাড়া, মোহাম্মদ নগরসহ বিভিন্ন এলাকা উল্লেখযোগ্য।

দেশের বাইরে থাকা অনুসারীরাও একই নিয়ম অনুসরণ করেন বলে জানা গেছে। ভারত, মিয়ানমার, জার্মানি, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসরত অনুসারীরা একই দিনে ঈদ উদযাপন করেন।

অন্যদিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে ঈদ নির্ধারণে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্তই রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুসরণ করা হয় এবং দেশের অধিকাংশ মানুষ সেই অনুযায়ী ঈদ পালন করেন। তবে কিছু সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের চাঁদ দেখার ভিত্তিতে আগাম ঈদ পালন করে আসছে।

চট্টগ্রামের এক ইসলামি গবেষকের মতে, চাঁদ দেখার বিষয়ে মাজহাবভেদে মতভেদ থাকলেও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুসরণ করলে সমাজে ঐক্য বজায় থাকে। একই দেশে ভিন্ন দিনে ঈদ উদযাপন সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি দীর্ঘদিনের প্রচলিত চর্চা এবং আইনশৃঙ্খলার সমস্যা না হলে সাধারণত এতে হস্তক্ষেপ করা হয় না।

দক্ষিণ চট্টগ্রামে মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীদের আগাম ঈদ উদযাপন ধর্মীয় ঐতিহ্য, বিশ্বাস এবং জাতীয় চাঁদ দেখা নীতিমালার ভিন্নতার একটি আলোচিত উদাহরণ হিসেবে প্রতি বছরই উঠে আসে।

Comments

Popular posts from this blog

নারায়ণগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় সাংবাদিক বিপ্লব গুরুতর আহত, সুযোগ বুঝে সর্বস্ব লুটলো চালক

জনসচেতনতা বৃদ্ধি করলেই ডেঙ্গুর প্রকোপ ও এর ভয়াবহতা দূর করা সম্ভব : সাখাওয়াত হোসেন খান

গণতন্ত্র হুমকির মুখে? গণতন্ত্রে বিশ্বাস না করা শক্তির উত্থান হচ্ছে- মির্জা ফখরুলের সতর্ক বার্তা